39 জন স্ত্রী 94 জন ছেলে মেয়ে নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় পরিবার এই ব্যাক্তির।



  ভারতের জিওনা নামক এক ব্যাক্তি গড়ে তুলেছেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় পরিবার। জিওনার 39 জন স্ত্রী 94 জন ছেলেমেয়ে 14জন পুত্রবধু সহ 33 জন নাতি নাতনি রয়েছে আর এই সংখ্যাটা দিন দিন বেড়েই চলেছে। তার পরিবারের প্রতিদিন খাবারের জন্য কমপক্ষে 100 কেজি চাল,70 কেজির বেশি আলু এবং মাংস রান্না করলে প্রয়োজন হয় 40 থেকে 60 টি মুরগি।এছাড়ও জিওনার ছেলে মেয়ে ও নাতি নাতনিদের পড়া শোনার জন্য স্থাপন করা হয়েছে নিজস্ব স্কুল এবং খেলাধুলার একাধিক ফুটবল টিম ও মাঠ।


বাংলাদেশ এবং মায়ানমারের সিমান্তবর্তী ভারতের মিজোরামের বাকতাওয়াং গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন জিওনা চানা। 1945 সালে জিওনার বয়স যখন মাত্র 17 বছর তখন প্রথবারের মতো বিয়ের পিরিতে বসেন জিওনা । তবে একটা বিয়ে করেই সন্তষ্ট থাকতে পারেননি তিনি। আর তাইতো একে একে বিয়ে করেন 39 জন নারীকে এর মধ্যে মাত্র এক বছরেই 10 টি বিয়ের রের্কড রয়েছে তার।


জিওনা একজন খ্রিষ্টান ধর্মের অনুসারী এবং তার বাবাও একজন খ্রিষ্টান ধর্মগুর  ছিলেন আর তার বাবাই এই পোলোগামি বা বহুবিবাহের ধর্মীয় শাখার উন্মোচন করেছিলেন। আর জিওনা তার বাবার দেখানো রাস্তায় অনুসরন করে চলেছে।জিওনা তার সব স্ত্রীকে নিয়ে একই ছাদের নিচে বসবাস করেন। জিওনার পরিবারের মতেই জিওনার ঘর অনেক বড়। জিওনার পরিবারের সদস্যদের বসবাসের জন্য চারতলা বাড়িটিতে 100 টিরো বেশি কক্ষ রয়েছে, আর এই বাড়িতেই থাকে পৃথিবীর সবেচেয়ে বড় পরিবারটি। জিওনার ঘরেরর পাশ দিয়েই তার সমস্থ স্ত্রীদের থাকার ঘর। নতুন বিয়ে করা স্ত্রীকে জিওনা অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন যার কারনে নতুন স্ত্রীর ঘরটি তার সাথে অথবা তার পাশের রুমেই রাখা হয় ।তবে সব স্ত্রীদেরই তার ঘরে যাওয়া আসার অনুমতী রয়েছে।তবে বার্ধক্য জনিত কারনে জিওনার দুজন স্ত্রী মারা গিয়েছে। আর সবেচেয়ে বড় যেই দুই স্ত্রী বেচে আছেন তারা পরিবারের দেখাশোনা করেন এবং বাকি স্ত্রীরা রান্নাবান্না করেন তবে এই রান্নাটা আর পাচটা পরিবারের মতন হয়না। এখানে রান্নাবান্না করতে গেলে সেটা বিশাল আকারের করতে হয়। 200 মানুষের রান্নার আয়োজনটা যেমন হওয়া উচিত সেরকামটাই হয়।

 তার পরিবারে সবার আলাদা  আলাদা ঘর থাকলেও রান্না ঘর একটাই এমন কি খাবার ঘরও একটাই যেখানে পরিবারের সবাই একই সাথে খাবার খেয়ে থাকে।জিওনার মেয়েরা ঘর পরিষ্কার পরিছন্ন রাখে।আর জিওনার পরিবারে ইনকামের জন্য তার ছেলেরা বাইরে কাজবাজ করে এসে জিওনার হাতে টাকা দেয় যার কারনে পরিবার চালাতে খুব বেশি একটা বেগ পেতে হয়না জিওনার। আগে কার দিনের রাজাদের মতো অনেকগুলো স্ত্রী নিয়ে জিওনা সুখেই শান্তিতেই বসবাস করেন। জিওনা বাকতাওয়াং গ্রামের সবেচেয়ে ধনি ওপ্রভাবশালী ব্যাক্তি। যার কারনে  সেখানে তার উপর দিয়ে কথা বলার কারো সাহস হয় না।জিওনার রয়েছে নিজস্ব চার্জ বা ধর্মীয় উপাসনালয় আর সেই চার্জের সর্ব্বোচ্চ ধর্মগুরু জিওনা নিজেই।যার কারনে তাকে যারা বিয়ে করছেন তারা সবাই পূন্যের কাজ করেছে এবং তার ভাষ্য মতে তার সব স্ত্রীই ভাগ্যবতী এবং স্বর্গে যেতে পারবে। যার কারনে তার পরিবারের স্ত্রীদের মধ্যে তেমন কোন ঝগড়া বিবাদ দেখাই যায় না। তবে জিওনার এই রীতিকে একটি বিপথগামী ধর্মীয় গোষ্ঠি বলে আখ্যায়িত করেন অনেকেই। তবে সে সব বিষয়ে জিওনার কর্নপাত করার সময় নেই।এই  পরিবারেরর সদস্যরা বাকতাওয়াং গ্রামেরর বিভিন্ন জনকল্যান মূলক কাজও করে থাকেন। জিওনার ক্ষমতার প্রতিক হিসেবে একটি সিংহের মূর্তি স্থাপন করা হেয়েছে বাকতাওয়াং গ্রামের পাহাড়ের চূড়ায়। জিওনার পরিবারের জন্য রয়েছে নিজস্ব স্কুল যেখানে জিওনার পরিবারের বাচ্চারা পড়াশোন করে থাকেন। তবে স্কুলটির পরিবচালনার দায়ভার প্রায় পুরোটাই রাষ্ট্রপক্ষ বহন করে। তবে জিওনার এই স্কুলের সমস্ত কর্মচারীরা কোন না কোন ভাবে জিওনার পরিবারেরই সদস্য। এই স্কুলে জিওনার ভাইয়ের ছেলে মেয়েরাও পড়াশোনা করে থাকে। জিওনার বাড়িতে তার সব ছেলেরাই নিজের স্ত্রী নিয়ে বসবাস করেন। পৃথিবীর সব থেকে বড় পরিবারে কার্তা হতে পেরে জিওনা গর্বিত। পৃথিবীর সব থেকে বড় পরিবারে কর্তা হয়েও জিওনা এখানে থামতে চাননি। তার বিয়ের কারার সমাপ্তী ঘটে 13 জুন 2021 সালে। 76 বছর বয়েসে জিওনা মারা যান তবে মারা যাওয়ার পূর্বে 181 সদ্যের একটি পরিবার রেখে যেতে  পেরেছেন।

Comments