দুনিয়ার সবচেয়ে দুর্ধর্স আর্মি বলা হয় এই চেচেন আর্মিকে। কিন্তু কারা এই চেচেন আর্মি?
তনে সোভিয়েত মসুলমানেরা একটি গোষ্ঠির আকার ধারন করে এবং চেচেন অন্ঞলে বসবাস শুরু করে। আর এই চেচেন হচ্ছে রাশিয়ার একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রজাতন্ত্র। যদিও এটি রাশিয়ার মুলভুখন্ডের অভ্যন্তরে অবস্তিত। তবে চেচেন কিন্ত কোন সাধিন রাষ্ট্র নয়।
এই চেচেনে প্রজাতন্ত্রের হেড হচ্ছেন মুফতি আখমাদ কাদরভের ছেলে রমজান কাদিরভ। যাকে সারাবিশ্ব অয়্যারলড বা যুদ্ধবাজ নামে ডেকে থাকে। তার তত্তাবধানেই চলছে বিশ্বের অন্যতম সাহসী স্মার্ট এবং রনকৌশলী এই চেচেন আর্মি ।
পৃথিবীতে যতো আর্মি রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম স্মার্ট এবং শক্তিশালী আর্মি মনে করা হয় এই মুসলিম চেচেন আর্মিদেরকে। একজন চেচেন আর্মি দশজন রুশ আর্মির সমান ক্ষমতা রাখে বলে মনে করা হয়। কিন্তু কেন দশজন রুশ আর্মি বরাবর একজন চেচেন আর্মি। কারন এই মুসলিম চেচেন আর্মিরা যুদ্ধকে জিহাদ হিসাবে মনে করে। তারা মনে করে তারা যুদ্ধে মারাগেলে শহিদ এবং বাচলে গাজী। যার কারনে দারুন নির্ভিক হয়ে থাকে এই ফ্রন্ট লাইনার চেচেন যোদ্ধারা। এই চেচেন আর্মি যেকোন কঠিন মুহুর্তেও পিছু হটবেনা। এটা সবাই নিশ্চিত জানে। তাইতো একজন চেচেন যোদ্ধা 10 জন রুশ আর্মির সমান।
চেচেন আর্মিরা যে কতটা সহসী তা সাড়া বিশ্ব বহু আগেই বুঝতে পেরেছিল। যখন চেচেন একটি প্রদেশ হয়েও 1994 সালে বিশ্বের পরাশক্তি রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছিল। পরাশক্তি রাশিয়ার মাত্র 2 ঘন্টার মধ্যেই চেচনিয়া দখল করে নিতে পারবে এটা মনে করা হলেও। এই যুদ্ধে বিপরীত চিত্র দেখেছিল পুরো বিশ্ব। কারন প্রাথমিক অভিযানে রুশ সৈন্যরা চেচনিয়ার পার্বত্য অন্ঞলের নিয়ন্ত্রন নেয়ার চেষ্টা চালায়। কিন্তুু রাশিয়ার প্রচুর লোকবল অস্ত্র ও বীমান সমর্থন থাকা সত্তেও চেচেন গেরিলা যোদ্ধারা রুশ বাহিনীকে কোনঠাসা করে ফেলেছিল। রুশ সরকারের তথ্যমতে যুদ্ধটিতে 5732 জন রুশ সৈন্য নিহত হয় যদিও এই সংখ্যাটা নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। পরে বাধ্য হয়ে 1996 সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বোরিস ইয়েলেৎসিন যুদ্ধ বিরতির ঘোষনা দেয় এবং চেচনিয়া থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করে নেয়।
কিন্তু পরবর্ততে আবারও চেচনিয়া এবং রাশিয়ার মধ্যে গৃহ যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। এবং চেচনিয়া স্বাধীন রাষ্ট্র দাবি করে। কিন্তু সেবার রাশিয়া চেচনিয়াতে ব্যাপক ধ্বংস যজ্ঞ চালায় এবং চেচনিয়াকে সম্পুর্ন মস্কোর নিয়ন্ত্রনে নিয়ে নেয়। কিন্তু তখন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন রাশিয়ার ক্ষমতায় চলে আসে । চেচনিয়ার সংকট নিরসনে পুতিন চেচনিয়ার মুফতি আখমদ কাদিরভকে চেচনিয়ার প্রেসিডেন্ট ঘোষনা করেন এবং চেচনিয়ার সাথে শান্তি চুক্তি করে। সেখানে চেচনিয়াদের অন্যান্য রাশিয়ানদের মতোই সুযোগ সুবিধা ভাগাভাগি করে নেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়। তার পর থেকে চেচেনরা শান্তিতে বসবাস করতে থাকে। কিন্তু হঠাৎ চেচনিয়ার শান্তিতে বিপর্যয় দেখা দেয়। কারন মুফতি আখমদ কাদিরভ চেচনিয়ার বিদ্রহীদের দারা গুপ্ত হত্যার শীকার হয়। তারপরই ভ্লাদিমির পুতিন আখমদ কাদিরভের ছেলে রমজান কাদিরভকে চেচনিয়ার প্রধান ঘোষনা করেন। তিনিই এখন এই চেচনিয়ার আর্মির প্রধান। আর এই রমজান কাদিরভের নেতৃত্বেই পরিচালিত হয় বিশ্বের সবচেয়ে সাহসী চেচেন আর্মি।
পুতিন ব্যাক্তিগত ভাবে যেমন বিধ্বংসী তেমনী এই রমজান কাদরভও একজন বিধ্বংসী সাহসী যুবক যার নামে চেচনিয়ার প্রেডিডেন্ট হবার আগে বেশ কিছু গুম খুনের মামলা ছিল। তার পরও রমজান কদিরভের পিতার গুপ্ত হত্যা হওয়ার প্রতিদান হিসাবে তাকেই পুতিন বেছে নেয় এবং চেচনিয়াতে শান্তি ফিরে আসে। পুনরায় সাজতে শুরু করে চেচনিয়া। গঠন করা হয় চেচেন আর্মি। যার 80% খরচ রাশিয়া বহন করে থাকে।
চেচনিয়া প্রায় শতভাগ মুসলিম প্রদেশ যেখানে পুরোপুরি শরিয়তের আইন জারি আছে। তার সাথে ধর্মীয় নিতি খুবই কঠোর ভাবে পালন করা হয়। চেচনিয়াতে সমকামীদের প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়ে থাকে। যার কারনে চেচনিয়াতে এখন কোন ধরনের সমকামীদের দেখা যায়না। তার সাথে নারীদের বাধ্যগত ইসলামী পোশাক পরতে হয়। জেনা বেভিচারের ঘটনা এখানে খুব কমই ঘটে। চেচনিয়ায় এই কঠোর সাশন প্রতিষ্ঠার কারনে সারা বিশ্ব রমজান কাদিরভকে চিনে থাকে েএবং তাকে সোস্যাল মিডিয়ায় লক্ষ লক্ষ মানুষ ফলো করে। রমজান কাদিরভকে প্রায়ই পশু পাখিদের সাথে মজা করতে দেখা যায়। রামজান কাদিরভ খুবই আনন্দ প্রিয় একজন মানুষ যাকে প্রায়শই আনন্দে থাকতে দেখা যায়। রমাজান কাদিরভ ব্যাক্তিগত ভাবে ফুটবল খুবই পছন্দ করনে। এবং তার পছন্দের প্লেয়ার মিসর থেকে উঠে আসা লিভার পুলের বিখ্যাত স্টাইকার মোহাম্মাদ সালাহ। আর মোহাম্মাদ সালার সাথে বহুবার ক্যামেরা বন্দি হয়েছেন রমজান কাদিরভ। রমজান কাদিরভ 5 ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন এবং চেচেন আর্মিদের প্রতিও নামাজের কঠোর নির্দেশ রয়েছে রমাজান কাদিরভের।
তবে রমজানকে সারা বিশ্ব থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কারন রমজানের কাছে গুম খুন খুবই তুচ্ছ বিষয়। তার সাথে রমজান চেচনিয়াতে এতো পরিমান সমকামী হত্যা করেছে যে চেচনিয়াতে বর্তমানে কোন সমকামী নেই। মানবাধীকার কঙ্ঘনের জন্য তাকে সারা বিশ্ব থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
চেচেন আর্মি ইউক্রেনে নামার পরে সাধারন মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে ুদিতে দেখা গেছে যাতে নিরিহ মানুষের মৃত্যু না হয়। চেচনিয়ারা মনে করে তাদের উদ্দেশ্য ইউক্রেন দখল করা নিরিহ মাানুষ হত্যা করা নয়। এতে বোঝা যায় চেচেন যোদ্ধারা যেমন নির্ভিক তেমন দয়ালু। তবে চেচেন আর্মিকে বাধ্য করলে তারা চরম বর্বরতা চালানোর জন্যও প্রস্তুত রয়েছে। রুশ বাহিনী ইউক্রেনে বেশ ধ্বংশযজ্ঞ চালালেও চেচেন আর্মিরা কোন নিরিহ মানুষকে হত্যা করছে না। কারন চেচেন আর্মিদের শিক্ষাটা ইসলাম দিয়েছে।

Comments
Post a Comment